শুক্রবার, ১২ Jun ২০২৬, ০১:২২ পূর্বাহ্ন
গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৭তম জন্মদিন উপলক্ষে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপিকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই, নিষেধাজ্ঞা, ভিসা নীতির ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। বৃহৎ শক্তির হুমকিকেই বঙ্গবন্ধু কন্যা পরোয়া করে না আর আপনারা কী হুমকি দেবেন। ষড়যন্ত্র করে নির্বাচন হতে দেবেন না, দেখি কে নির্বাচন ঠেকাতে আসে!’
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক চালু করে বাংলাদেশে আবার অস্বাভাবিক সরকার করবেন সেটা আর হবে না। অস্বাভাবিক সরকার মানি না, কে আসুক, কে বলুক তাতে কিছু আসে যায় না। ভয় দেখায় শেখ হাসিনার অধীনে ইলেকশন হবে না। আমি আজ বলে দিতে চাই, বাংলাদেশে শেখ হাসিনা ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ট্রাম্পকে সামলাতে পারে না আর বাংলাদেশকে ধমক দেয়। নির্বাচন আমরা করব, আমরা অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। নিষেধাজ্ঞার কী হলো? ভিসা নীতির কী হলো, আমার নির্বাচন আমি করব অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন করব, তুমি বুদ্ধি দেয়ার কে? তুমি বলার কে? আমাদের গণতন্ত্র আমাদের সংবিধান ঠিক করবে। আমাদের নির্বাচন আমাদের সংবিধান নির্ধারণ করবে। আমরা তত্ত্বাবধায়ক মানি না, ওটা এখন মরা লাশ। তত্ত্বাবধায়কের মরা লাশ আমাদের কাছে এনে লাভ নেই।’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘১৯৭১ সালে নিষেধাজ্ঞাকে ভয় পেলে বাংলাদেশ কোনো দিনও স্বাধীন হতো না। নিষেধাজ্ঞাকে ভয় করলে বঙ্গবন্ধু এ দেশকে স্বাধীন করতে পারতেন না। আজকে নিষেধাজ্ঞাকে ভয় করলে বাংলাদেশের যে অগ্রগতি, যে সমৃদ্ধির সোনালি অর্জন, তা অব্যাহত রাখতে পারব না।’
বিএনপির আলটিমেটামের সমালোচনা করে কাদের বলেন, ‘৪৮ ঘণ্টা শেষ, আলটিমেটাম শেষ, এরপর কী হবে? ফখরুল সাহেব এখন কী করবেন? আন্দোলনের ডাকে পাবলিক নাই। ভুয়া! বিএনপির এক দফা ভুয়া, তত্ত্বাবধায়ক ভুয়া, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ভুয়া। খেলা তো হবে।’
ক্যাপ্টেন যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। ক্যাপ্টেন এলে জোরদার খেলা হবে।’
সভায় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, ‘শেখ হাসিনা থাকলে বাংলাদেশ নিরাপদে থাকে। শেখ হাসিনা ভালো থাকলে আমরা ভালো থাকি। দীর্ঘদিন লড়াই-সংগ্রাম করেছি নেত্রীর আপসহীন নেতৃত্বের কারণে। আজ বিএনপি বার বার দফা দেয়। ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে, অথচ পাঁচদিন হয়ে গেছে খবর নেই। ১৫ বছরে আন্দোলন করে কিছু করতে পারেনি। আগামী এক মাসে নাকি তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে আসবে।’
সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ আফগানিস্তান বা পাকিস্তান নয়। আফগানিস্তানে বার বার পুতুল সরকার বসানো সম্ভব। পাকিস্তানেও আপনাদের ইচ্ছার প্রতিফলন সম্ভব। এটা বাংলাদেশে সম্ভব নয়। এখানে দেশের জনগণ যেটা চাইবে, সেটাই হবে। সব দিক থেকে বাংলাদেশ এখন এগিয়ে গেছে। এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবারো সরকার গঠনের জন্য কাজ করতে হবে।’
সংসদ উপনেতা ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. আবদুর রাজ্জাক, শাহজাহান খান, কামরুল ইসলাম, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এ সময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।